সাইফুল বিন আ. কালাম : আউটসোর্সিং ভাবনা

Saiful bin A Kalam
Saiful bin A Kalam
Saiful bin A Kalam

সাইফুল বিন আ. কালাম, পিতা:- মৃত: আবুল কালাম, মাতা: রহিমা বেগম (গৃহিনী)। ছয় ভাই-বোন। চট্টগ্রাম বিভাগ ও জেলার সাতকানিয়া থানার অন্তর্গত বারদোনা সিকদার পাড়ায় এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম।

অন্য সবার মত আমারও পড়ালেখার হাতেখড়ি হয় মা-বাবার কাছে। পরে নিজ এলাকায় বারদোনা শিশু কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে একাডেমিক ক্যারিয়ার শুরু করি। ক্রমান্বয়ে বারদোনা রেফাঈয়া শাহ আকবরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৭ম শ্রেণী, গারাংগিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাশ করি।
গ্রাজুয়েশন করার জন্য চট্টগ্রাম, ঢাকা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম কলেজে অনার্স অর্থনীতি প্রোগ্রামে ভর্তি হই। কিছুদিন সব ঠিকঠাক চলে। হঠাৎ একটা চরম দুর্ঘটনার কারণে সব ভেস্তে যায়। স্বপ্ন বাঁধাপ্রাপ্ত হয় চরম নিয়তির কাছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার আর পরীক্ষা দেওয়া হল না। প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আবার ভর্তি হলাম চট্টগ্রাম কলেজের ডিগ্রি প্রোগ্রামে। চলছে, এখনো চলতেছে।

আলিম পরীক্ষা দিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসি। শুরু হয় অন্য এক জীবন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতির জন্য “ফোকাসে” কোচিং করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাই বা না পাই, জীবনে অনেক কিছু শিখলাম, অর্জন করলাম এই কোচিং থেকে। ধীরে ধীরে খুঁজতে থাকি একটা আয়ের উৎস জীবনের প্রয়োজনে। কী করা যায় ভাবতে থাকি! কিছুতো একটা করতেই হবে। একদিন বন্ধু ইউসুপ ফোনে খবর দিল “আউটসোর্সিং” এর। ক্লিক করে করেই নাকি ডলার ইনকাম করা যাই এবং একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ হলে উইথড্র করা যায়। বুকভরা আশা-ভরসা আর স্বপ্ন নিয়ে ছুটলাম তার বহদ্দারহাট এর বাসায়।

বলে রাখি তখনো আমি কম্পিউটার এর “ক”ও জানতাম না। ইউসুপ ঝটপট করে একটা ই-মেইল খুলে দিল এবং একটা পিটিসি সাইটে সাইন-আপ করে দিল। একটা ফেইসবুক একাউন্ট ও খোলে দিল সেদিন!! সবকিছু শিখে নিলাম ইউসুপ ও তার দল থেকে। আরো কিছু বন্ধুদের কে সাথে নিয়ে বিশেষকরে “ইমতিয়াজ ও আব্দুল আহাদ” নেমে পড়লাম ক্লিকবাজি করার জন্য। বিভিন্ন বন্ধুদের পিসিতে, সাইবার ক্যাফে বসে বসে অনেক ক্লিকবাজি করলাম। শেষমেশ যা হওয়ার তাই হল। কিছুই হলনা, শুধুই প্রতারণা। পরে একটা প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং শিখার জন্য ভর্তি হলাম। মোটামুটি অনেক কিছুই শিখলাম। বিশেষ করে ইমেইল, ওয়েবসাইট ব্রাউজিং, বিভিন্ন ওয়েব সাইটে সাইন-আপ করা, কোন তথ্য গুগল থেকে খুঁজে করে নিয়ে আসা, অনলাইনে উপার্জনের সঠিক মাধ্যম ও স্বচ্ছ ধারণা, ওয়ার্ডপ্রেস সি.এম.এস এর মাধ্যমে ওয়েব সাইট ডিজাইন, ব্লগস্পটে ওয়েবসাইট খোলা, এস.ই.ও সহ আরো অনেক কিছু।

সবকিছুর গুরু ছিল মসরুর জুনাইদ ভাই। আর আমার সাথে একই পথের পথিক ছিল ইমতিয়াজ। সে আমাকে ছাঁয়ার মত অনুসরণ করত এবং সাধ্যমত সহযোগিতা করত। কোন কিছু নিজে শিখতে না পারলেও আমি শিখতে পারলে ও সবচাইতে বেশি খুশি হত। আমার স্বপ্নই তার স্বপ্ন। আমার চাওয়াই তার ইচ্ছা। সে এক অন্য রকম বন্ধু। জীবনে বড় কোন মহৎ কাজ করলেই হইত এ রকম বন্ধু পাওয়া যায়।
আমি স্বপ্ন দেখতাম, দেখাতাম, সমানতালে কাজ শিখতাম। দিনে রাতে এমনকি ঘুমেও।
কাজ শিখতে ও করতে গিয়ে একটা কম্পিউটারের ভীষণ প্রয়োজন পড়েছিল। তাই অনেক ম্যানেজ করে একটা লেপটপ কিনেছিলাম। বেড়ে গেল কাজের গতি। কিন্তু মূল লক্ষে পৌঁছাতে এখনো অনেক দেরি।
আউটসোর্সিং বা অনলাইনে কাজ করে আয় করতে গেলে কম্পিউটারের মৌলিক কাজ (অপারেটিং সিস্টেম, পিসি সেট-আপ, মাইক্রোসপ্ট অফিস ইত্যাদি) জানার পাশাপাশি আরো জানতে হবে কোন একটা ভাল প্রোগ্রাম। সেটা হতে পারে ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, প্রোগ্রামিং, সার্স ইঞ্জন অপটিমাইজেশন, থ্রীডি এনিমেশন বা অন্য কোন প্রোগ্রাম। এরপর জানতে হবে সঠিক মাধ্যম, সিস্টেম ও কমিউনিকেশন।
সঠিক মাধ্যম ও কাজ জানার পর (ফ্রন্ট-ইন্ড ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও গ্রাফিক্স ডিজাইন) ওডেস্কে বর্তমানে আপওয়ার্কে কাজ করেছি, করতেছি এমনকি পরের টাকা ঘরে এনেছি। এখনো নতুন নতুন কাজ শিখতেছি এবং কাজ করতেছি। দূরে মেঘের আড়ালে একটু একটু দেখতে পাচ্ছি সফলতার হাতছানি। এগিয়ে যেতে হবে আরো অনেত দূর…

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s