বাংলাবানান । চন্দ্রবিন্দুপ্রয়োগ

বলার ক্ষেত্রে যেমন উচ্চারণের সতর্কতার দরকার আছে ঠিক তেমনি লেখার ক্ষেত্রেও সঠিক বানানের প্রয়োগের দরকার। এরজন্য আমরা কোথায় বানান কিরকম হবে সেটা মুখস্ত করলে আমাদের মনে নাও থাকতে পারে। এ জন্য আমাদের জানতে হবে সঠিক নিয়ম বা কৌশল। আর তাই আজকে আমরা শিখব চন্দ্রবিন্দু প্রয়োগের নিয়ম বা মনে রাখার কার্যকরি কৌশল।
আরো একটি লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো; যদি আমরা সঠিক বানান না লিখি বা সঠিক উচ্চারণ না করি তাহলে অনেক সময় অর্থের পার্থক্য হয়ে যাবে। যেমন কাঁটা বললে আমরা বুঝি যেটা বিদ্ধ হলে মানুষের কষ্ট হয় বা ফুলের কাঁটা আবার কাটা বলতে কোনকিছুকে কর্তন করা বুঝায়। অনুরূপ আরো আছে; গাঁ বলতে আমরা গ্রাম বুঝলেও গা বলতে বুঝি শরীর।
চন্দ্রবিন্দু একটি স্বতন্ত্র বর্ণহলেও সে একা কখনো ব্যবহার হয়না। সে কারো না কারো উপর ভর করে চলে। এজন্য এটি একটি পরাশ্রয়ী বর্ণ। বাংলা ৩৯টি ব্যাঞ্জনবর্ণে মোট ৬টি নাসিক্য বর্ণ আছে। সেগুলোহলো ঙ, ঞ, ণ, ন, ম ও ং। আমরা জানি আমাদের বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডার উৎপত্তিগতভাবে ৫ প্রকার যার প্রথম প্রকার হল তৎসম। অর্থাৎ যে সমস্ত শব্দ সরাসরি সংস্কৃত থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে কোনরকম পরিবর্তন ছাড়া সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।  আবার কিছু কিছু শব্দ তৎসম থেকে কিছুটা পরিবর্তন হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে সেগুলোকে অর্ধ-তৎসব শব্দ বলে। আর যে সব শব্দ প্রাকৃত ভাষার মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে সেগুলোকে আমরা তদ্ভব শব্দ বলি। আর বাকি থাকলো দেশি ও বিদেশি। তো যায় হোক; কোন সংস্কৃত শব্দে যদি উল্লেখিত ৬টি নাসিক্য বর্ণ থেকে থাকে এবং এগুলো পরিবর্তিত হয়ে অর্ধ-তৎসম বা তদ্ভব হওয়ার সময় যদি ঐ নাসিক্য বর্ণগুলো বাদ দেওয়া হয় তাহলে যেখান থেকে বাদ পড়েছে ঠিক তার আগের ঘরে চন্দ্রবিন্দু হবে।
যেমন:
সংস্কৃত————বাংলা তদ্ভব
বঙ্কিম————বাঁকা
অঙ্কন————আঁকা
কঙ্কন————কাঁকন
পঞ্চ————পাঁচ
কণ্টক————কাঁটা
ষণ্ড————ষাঁড
যন্ত্র————যাঁতা
কন্থা————কাঁথা
খান————খাঁ
ইন্দুর————ইঁদুর
সিন্দুর————সিঁদুর
বন্ধন————বাঁধন
অন্ধকার————আঁধার
সন্তরণ————সাঁতার
স্কন্ধ————কাঁধ
গ্রাম————গাঁ, তেজগাঁ, সোনারগাঁ
কম্পন————কাঁপন
ঝম্প————ঝাঁপ
বংশী————বাঁশি
হংস, হংসি————হাঁস, হাঁসি
এর বাইরেও আরো দু’টি কারণে চন্দ্র বিন্দু হয়;
যেমন কিছুকিছু সর্বনামের ক্ষেত্রে যেগুলো সম্মানার্থে ব্যবহার করা হয়। রবীন্দ্রনাথ বা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কিছু বললে বা লিখলে সর্বনামে অবশ্যই চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করতে হবে। যেমন: বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধী বাংলার স্থপতি। তাঁর স্বপ্ন ছিল এ দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করা।
আর অন্যটি হচ্ছে ধনাত্মকবর্ণ যেখানেও চন্দ্রবিন্দু হবে। যেমন: ভোঁভো, সোঁসো ইত্যাদি।

এছাড়া চন্দ্রবিন্দুর ব্যবহারের উপর আমার ভিডিও টিউটরিয়াল দেখুন

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s