ইতিহাস ও কুরআনের আলোকে সাম্প্রদায়িকতা

সাম্প্রদায়িকতা

ভারতীয় উপমহাদেশে একচ্ছত্র হিন্দুদের বসবাস ছিল। তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবক্ষয়ের কারণে 712 খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাশিমের সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে উপমহাদেশে ইসলাম তথা মুসলিমদের আগমন ঘটে। বঙদেশে ইসলামের পতাকা উঠে 1204 খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজির নদীয়া বিজয়ের মাধ্যমে। উপমহাদেশে মুসলিম শাষন 1757 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ছিল যার ব্যাপ্তিকাল প্রায় 1024 বছর। এই সময়ে উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি বজায় ছিল।

পরবর্তীতে 1757 খ্রিস্টাব্দে নবাব সিরাজুদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে ইংরেজ শাষন প্রতিষ্ঠা হলে ইংরেজদের পৃষ্ঠপোষকতায় সাম্প্রদায়িকতার উন্মেষ ঘটে যা 1947 খ্রিস্টাব্দে দেশ বিভক্তির পর অনেকটা লোপ পেয়ে থাকলেও আঝও তা কিছুটা হলেও বিদ্যমান। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির দেশ নামে ইতোমধ্যে বেশ সুনাম অর্জন করলেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করার জন্য এধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ হতে পারে কিছু ধর্মীয়জ্ঞানশুণ্য মানুষের অজ্ঞতা।

প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে হিন্দু মুসলিম কেউ কাউকে পার্থক্য করে না। এঁরা মিলেমিসে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সচেষ্ট।

সাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারে কুরআন হাদিসের কিছু উদ্বৃতি নিচে উল্লেখ করা হল…

“যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিম নাগরিককে হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না; অথচ জান্নাতের সুগন্ধি চল্লিশ বছরের দূরত্বে অবস্থান করেও অনুভব করা যাবে।” – হাদিসে বুখারী, ৬/২৫৩৩

“জেনে রাখো, যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিম নাগরিক বা সংখ্যালঘুকে আঘাত করে বা তাকে অপদস্থ করে, অথবা কর্মচারী নিয়োগ করে তার সাধ্যের বাইরে কাজ চাপিয়ে দেয়, আমি মুহাম্মদ (সাঃ) তার বিরুদ্ধে কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহর দরবারে মামলা দায়ের করব।” – হাদিসে আবু দাউদ, ২/৪৩৩)

“সাবধান! যারা অমুসলিমদের উপর নির্যাতন করবে, তাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দেবে অথবা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের সম্পদ নিয়ে নেবে, তারা আমার দলের নয়। আমি মুহাম্মদ (সাঃ) তাদের বিরুদ্ধে কিয়ামতের ময়দানে সুপারিশ করবো!” – হাদিসে আবু দাউদ

“আল্লাহকে ছেড়ে যাদেরকে তারা ডাকে তাদেরকে তোমরা গালি দিও না; কারণ এতে তারাও সীমালংঘন করে অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহকে গালি দিবে।” – সূরা আল-আন’আম, আয়াত ১০৮

আসুন আমরা সচেতন হই। সবাই মিলেমিশে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সচেষ্ট হয়।

https://www.youtube.com/watch?v=SDC8benRdJo (ভিডিও দেখুন)

Advertisements

One thought on “ইতিহাস ও কুরআনের আলোকে সাম্প্রদায়িকতা

  1. অল্প কথায় চমৎকারভাবে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ইসলামের বিধান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই লেখককে ধন্যবাদ জানাই।
    তবে তার ঐতিহাসিক তথ্য, তত্ত্ব ও বিশ্লেষণকে সম্পূর্ণ মানতে পারলাম না। মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের কারণ হিন্দুদের ধর্মীয় অবক্ষয় ছিল না। রাজা দাহির কর্তৃক আরব বণিকদের স্বর্বস্ব লুট করা হলে খলিফা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ রাজা দাহিরকে এর প্রতিকার করতে বলেন। কিন্তু দাহির জল দস্যুদের বিচার করতে অপারগ হন। এর ফলেই সিন্ধু অভিযান পরিচালিত হয়। বিষয়টি কোন ধর্মীয় অভিযান ছিল না, এটা ছিল আরব বণিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য খলিফার রাজনৈতিক অভিযান।
    অন্যদিকে মুহাম্মদ বিন ইখতিয়ার উদ্দীন বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের সাথেও ধর্মীয় কোন অনুপ্রেরণা ক্রিয়াশীল ছিল না। বস্তুত বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের আগমন ঘটেছিল এসব ঘটনার অনেক আগেই সুফিদের দ্বারা। তবে এটা ঠিক যে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের সাথে সাথে ধর্মের বিস্তৃতির গতিশীলতা বেড়েছে। কিন্তু তাই বলে শাসকদের ঝাণ্ডাকে ইসলামের ঝাণ্ডা বলাটা সত্যের অপলাপ মাত্র। কারণ ইসলাম, কোন দেশেই অস্ত্রের বলে প্রচারিত হয়নি।

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s