বিশ্বসেরা সমুদ্র সৈকতে আমরা ক’জন

World largest sea beach

চট্টগ্রাম কলেজ থেকে স্নাতক জীবনের ৩য় বারের ট্যুার স্পট ঠিক করা হলো বঙ্গবন্ধু সাপারি পার্ক হয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। এবারের ট্যুারকে স্মরণীয় করে রাখতে বেশকিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছিলাম যার মধ্যে অন্যতম হলো সাংস্কিৃত অনুষ্ঠান ও সমস্ত প্রোগ্রামের ভিডিও ধারণ যা আমাদের স্নাতক জীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে। আমাদের প্রধান অতিথি ছিলেন, কলেজের সম্মানিত শিক্ষক, প্রফেসর ইউনুস।
গাড়িতে যথারীতি সমবেত কন্ঠে গান, একক গান, রম্য অভিনয়, নাচ ও অন্যান্য বিনোদনমূলক কার্যক্রম ছিল। যার সবকিছু এবং ট্যুার স্পটগুলো সহ আমাদের সাক্ষাৎকারগুলো ভিডিওতে রেকর্ড করা আছে।

গাড়ি যথারীতি সাপারি পার্কে গিয়ে থামল। ওখানকার গাড়ি নিয়ে পুরো পার্কটি ঘুরে এলাম যা হেটে ঘুরে আসতে অনেক সময়ের পাশাপাশি শরীরের সব ক্যালরি ক্ষয় হয়ে যাবে। দেখার মত যা ছিল; অজগর সাপ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, উন্মুক্ত হরিণ ও বানর, রয়েল বেঙল টাইগার, হাতি, জলহাতি আর নৈসর্গিক প্রাকৃতিক পরিবেশের উচু-নিচু পাহাড়ি পথ, ঘন বন জঙ্গল ও হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটকের মিলনমেলা।
সাপারি পার্কে দেড় ঘন্টার মত অবস্থান নিয়ে আমরা সরাসরি মূল আকর্ষণ কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। গাড়ি গিয়ে থামল সি-বিচ এলামা লাভনি পয়েন্টে। ওখানেই সবুজ ঘাসের উপর বসে 7-8 জন করে জটলা পাকিয়ে দুপুরের খাবারটা সেরে নিলাম। বিরিয়ানির প্যাকেট আমরা চট্টগ্রাম থেকেই নিয়ে এসেছিলাম। অনেকেই নুডলুসের মত লম্বা চউলের ভাত দেখে ইয়ারর্কি করতে লাগল। কারণ অনেকেই জানত না্ এগুলো বাসমতি চাউল।
খাবারের পরপরই কুইজ প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা ছিল। কুইজ তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আমাকে। ভ্রমণ ও পিকনিক স্পট রিলেটেড প্রশ্নসহ বাংলা, ইংরেজি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আয়োজক কমিটির গাফলতির কারণে এটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। শিক্ষা জীবন শেষে যে কঠিন বাস্তবতার মুখোমূখী হতে হয় সেটি সবার মাঝে জাগিয়ে দেওয়ার জন্যই মূলত এই উদ্যোগটি নিয়েছিলাম।
এরপরই সবায় যার যার মত করে পোশাক পাল্টিয়ে সৈকতের আসল মজা পানিতে কিডিং করার জন্য প্রস্তুত হয়। অনেকে কাবাডি খেলতে শুরু করল কেউ বা সমুদ্রে সরাসরি জাম্প! আবার অনেকে আছে যারা ছাগলের মত পানিতে নামতে চাইনা তাদেরকে জোর করে নামানোর দায়িত্বও আমরা নিয়েছিলাম। (বন্ধু! আজ তুমার রক্ষে নেই!) পানিতে ঢেউ এর সাথে আলিঙ্গন ও জড়াজড়িতে যে কী আনন্দ তা যারা নামেনায় তারা কখনোই বুঝতে পারবে না।
সাগরের ঢেউয়ের সাথে অনেক্ষণ ইয়াম্মি (মজা) করার পর শরীর কিছুটা ঠান্ডা-নিস্তেজ হয়ে এলে, বিচে উঠে এসে আবার দৌড়াদৌড়ি ও কফি পান করলাম। আবার সেই স্পিডে সমুদ্রে জাম্প আর ননস্টপ কিডিং……।
এত আনন্দের মাঝে বেশি মজা করতে গিয়ে একটা চরম দুর্ঘটনা হয়ে যায়। সেটি হল….. কলেজে আমার অন্যতম প্রিয় বন্ধু রুদ্র। তার আসল নাম রাসেল খান হলেও তাকে সবাই রুদ্র নামেই চিনে। সে আমাকে বলে; বন্ধু আমাকে তুর কাঁধের উপর তুলে দাঁড়িয়ে যাবি, আমি একটি ছবি তুলব। আমিও তাই করলাম, ছবিও তুলা হল। তবে একটু বেশি মজা করতে গিয়ে তাকে আলতু করে ফেলে দিয়েছিলাম সৈকতের বালিতে। কিন্তু এই মজা করতে গিয়েই বন্ধুটি আমার কোমরে বড্ড ব্যথা পেয়েছিল। তাৎক্ষণিক নিজেকে অনেক বেশি ফাজিল মনে হয়েছিল। দু’একবার সরি বলে হাত-পা টেনে দিয়ে মোটামুটি স্বাভাবিক করলাম। পরে মনে মনে অনেক খারাপ লেগেছিল। আসার সময় গাড়িতে দু’একবার তার কাছে গিয়ে সরি বলতে চাইলেও লজ্জায় বলতে পারি নি। এতটায় লজ্জিত হয়েছিলাম। যদিও সে বিন্দুমাত্র মাইন্ড করে নি।
অবশেষে মিঠা পানিতে গোষল করে ফ্রেস হয়ে নিলাম। সমুদ্রের অন্যতম আকর্ষণ সূর্যাস্ত দেখে মার্কেটের দিকে রওয়ানা হলাম।
এখানে কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে দিই…………………. কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। এর দৈর্ঘ 125 কি.মি.। কক্সবাজার নামটি মি. কক্স নামে জনৈক ব্যক্তির নামে নামকরণ করা হয় ব্রিটিশ আমলে। কক্সবাজারের পূর্ব নাম ছিল পালকিং। বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ তাও কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন কক্সবাজারের অদূরে অবস্থিত। কক্সবাজারের অদূরে টেকনাফের সাথে মায়ানমারের সীমান্ত। বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে বিভক্ত করেছে নাফ নদী। তো এবার মূল গল্পে ফিরে আসা যাক।
বিচের একেবারে কাছে লাবনি পয়েন্টে ঝিনুক মার্কেট। সময় কম থাকায় কাছ থেকেই সেরে নিলাম মার্কের্টিং। অনেকে আবার সময়ের ঝুকি নিয়ে একটু দূরে বার্মিজ মার্কেটে গিয়েছিল। অবশ্য তাদের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে আমাদের কিছুটা দেরী হয়েছিল। তারপরেও সবাই তো জানের জান দোস্ত, কিচ্ছু বলার ছিল না।
অবশেষে সব স্মৃতি বুকে ধারণ করে সমুদ্রকে একা করে দিয়ে চট্টগ্রামের দিকে গাড়ির চাকা ঘুরতে লাগল। আর আমরা সবাই শেয়ারইট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। আবার কিছু কিছু হতভাগা ব্লুটুথ নিয়ে ঘুতাঘুতি করছিল। ইতোমধ্যে যাদের মোবাইলের চার্জ শেষ তাদের তো কপাল পোড়া অবস্থা………পাওয়ার ব্যাংক খুঁজতে লাগল।
আমাদের সম্পূর্ণ ভ্রমণেল গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলো খুবই চমৎকারভাবে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে ও এডিটিং করে এর নতুন মাত্রা দেওয়া হয়েছে। এখানে অনেকেই অনেক চমৎকার সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ভিডিও দেখুন:
আমাদের সবার ছবিগুলো দিয়ে একটি চমৎকার ছবি অ্যালবাম করা হয়েছে যার সর্বাধিক তুলেছে প্রিয় দোস্ত এস.পি কাজল। অ্যালবাম থেকে তোমার প্রিয় ছবিটি ডাউনলোড করে নিজের কালেকশনেও রাখতে পার। এর বাইরে আর কোন ছবি তোমাদের কালেকশনে থাকলে আমাকে মেইলে (saifulbinakalam@gmail.com) অথবা ইনবক্সে দিতে পার, আমি অ্যাড করে দিব। ছবি অ্যালবাম লিংক:
কিছু উল্লেখযোগ্য ছবি দিয়ে একটা স্লাইড শো তৈরি করা হয়েছে যার লিংক এখানে:
লেখাটি সবাই শেয়ার করে যার যার ওয়াল স্মৃতি হিসেবে রেখে দিও।
শুভেচ্ছান্তে……
সাইফুল বিন আ. কালাম

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s