বলরামের ডিমের মিষ্টি (ছোট গল্প)

বলরামের ডিমের মিষ্টি

সকালে নিজের ঘরের তৈরি নাস্তা খেয়ে বের হতে কে না চায়? কিন্তু ইদ্রিস আলী সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম একটা লোক। সে প্রতিদিন বলরামের মিষ্টির দোকানে নাস্তা করে।বলরাম, বলরামের স্ত্রী কৃষ্ণা ও তার ছেলে ক্ষুদিরাম মিলে দোকানটা চালায়। আঝও সে নাস্তা করতে এসেই মিষ্টির অর্ডার করল। ডিমের মিষ্টি। কিন্তু একী! মিষ্টিতে কামড় বসাতেই বুঝতে পারল, মিষ্টির ভেতর খোসাসহ আস্ত সিদ্ধ ডিম বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইদ্রিস আলী বলরামের উপর প্রচণ্ড রেগে গেল! এটা কোন ধরণের মিষ্টি? ডিমের খোসা ছাড়ানো হইনি কেন? বলরাম পাত্তা না দিয়ে বলল; এত সময় কোথায়? আমি এ রকমই বানাই। ইদ্রিস আলী এখন আরো বেশি ক্ষেপে গেল।এক পর্যায়ে ইদ্রিস আলী চেয়ার হাতে নিয়ে বলরামকে মারবে মারবে অবস্থা! অবশেষে সে আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে চেয়ার নিয়ে বলরামকে এলোপাতাড়ি পেটাতে লাগল। এক পর্যায়ে বলরাম মার খেতে খেতে তার ছেলে ক্ষুদিরামকে বলল; ওনাকে ক্যাশ থেকে দু’হাজার টাকা ডেমারেজ দিয়ে দাও। আমি ভুল করেছি ইদ্রিস ভাই, প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও। ততক্ষণে বলরামের বউ ও ছেলে বালরামকে বাঁছাতে ইদ্রিসের জামা ধরে টানাটানি করতে করতে প্রায় পুরো জামাটায় ছিড়ে ফেলেছে। এখন পরিবেশ কিছুটা শান্ত। ক্ষুদিরাম বাবার ক্যাশ থেকে দু’হাজার টাকার দু’টি নোট নিয়ে ইদ্রিস আলীর হাতে ধরিয়ে দিল। এতক্ষণে ইদ্রিস আলী সহসিকতার সাথে পরিস্থিতি নিজের নিয়েন্ত্রণে রাখলেও টাকা হাতে নেয়ার পর সে যেন ভিতু হয়ে গেল। সে এক অজানা আতংকে কাঁপছিলো। তার সব সাহস মুহুর্তে হারিয়ে গেল। কিন্তু দু’হাজার টাকার লোভও সামলাতে পারল না। কচকচা কী সুন্দর দু’টি নোট। ইদ্রিস আলী চলে যাবে এই মুহূর্তে ক্ষুদিরাম থানায় ফোন করে দিল। ক্ষুদিরাম ইদ্রিসকে বলল; আপনাকে এক্ষুনি থানায় যেতে হবে। ওসি সাহেবের নির্দেশ। ইদ্রিস আলী কিছুটা অবাক হয়ে বলল; আমি আগে বাড়ি গিয়ে জামা পড়বো তারপর যাবো। এই বলে সে বের হয়ে গেল। পেছনে পেছনে ক্ষুদিরামও বের হয়ে বলল; ওসি সাহেব আবার ফোন করেছেন, আপনাকে এখনি যেতে বলছে। ইদ্রিস আলী অগত্যা রাজি হয়ে ক্ষুদিরামের পেছনে পেছনে থানার দিকে পা বাড়াল। যেতে যেতে ইদ্রিস আলী চিন্তা করতে লাগল; দু’হাজার টাকা নিয়েছি এটা যদি ওসি সাহেব জানতে পারে তাহলে তো আমি ভিষণভাবে ফেঁসে যাব। এই টাকাটা আমি এখন কী করি। ফেলে দিবো? না; এতগুলো টাকা ফেলে দেওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কোথাও লুকিয়ে রাখলে কেমন হয়। ইদ্রিস আলী একটি গাছের নিচে টাকাটা লুকিয়ে রাখল যাতে আসার পথে আবার নিয়ে নেওয়া যায়। ক্ষুদিরাম কিছুই টের পেল না।থানার ফটকে ইদ্রিস একটু ইতস্ততবোধ করল, কারণ তার গায়ে কোন জামা ছিল না। খালি গায়ে খুবই লজ্জা লাগছে। ক্ষুদিরামকে বলল, তোর জামাটা একটু আমায় দে। ক্ষুদিরাম সাথে সাথেই খুলে দিয়ে দিল। এই নিন স্যার। ইদ্রিস আলী জামাটি হাতে ধরেই আবার ক্ষুদিরামকে দিয়ে দিল। এত ময়লা কাপড় মানুষে পড়ে! তাছাড়া জামায় মিষ্টির সর লেগেছিল। যাইহোক দু’জনে ওসি সাহেবের রুমে ঢুকতেই ক্ষুদিরাম পেছন থেকে ইদ্রিস আলীকে ঐ জামা দিয়ে ঝাপটা মেরে পেছিয়ে ধরল। ওসিকে বলল; এই নিন স্যার, গুণ্ডাটাকে ধরে এনেছি। ইদ্রিস আলী তো হতবাক! তার ইচ্ছে হলো বলরামকে যা মেরেছি তার চৌগুণ এই হারামিকে পেটায়, কিন্তু এ তো থানা, সামনে পুলিস, কিচ্ছু করার নাই। ইদ্রিস আলী শুধু অবাক চোখে চেয়ে আছে ক্ষুদিরামের পানে… আর ভাবছে ডাল খাওয়া ঠাণ্ডা মাথার পাবলিকরা এমনই হয়। সারাদিন রাম রাম, দিনশেষে রামের কী কাম!!!

(স্বপ্নে পাওয়া ঘটনা অবলম্বনে সাইফুল বিন আ কালামের প্রথম ছোট গল্প)

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s